আল-কুরআন এর কিছু বানী ও সহীহ হাদিস সমূহ – SQLi Basic

আল্লাহ তাআলা বলেন :
{وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا}
‘ যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন’ ( সূরা আত-তালাক:২-৩)।
সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না যে আল্লাহ তাআলার ইলম সব কিছু পরিব্যাপ্ত করে আছে। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, নড়াচড়া, কথা ও কাজ সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। ইরশাদ হয়েছে :
{وَسِعَ رَبِّي كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ}
‘ আমার রব ইলম দ্বারা সব কিছু পরিব্যাপ্ত করে আছেন। অতঃপর তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না’? (সূরা আল-আনআম: ৮০)।
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে :
{وَمَا يَعْزُبُ عَنْ رَبِّكَ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَلَا أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ}
‘ তোমার রব থেকে গোপন থাকে না যমীনের বা আসমানের অণু পরিমাণ কিছুই এবং তা থেকে ছোট বা বড়, তবে (এর সব কিছুই) রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে’ (সূরা ইউনুস:৬১)।
উল্লিখিত দু’টি আয়াত এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াতের ভাষ্য যদি আমরা প্রকৃত অর্থে অনুধাবন করতে সক্ষম হই, তাহলে আল্লাহ তাআলা সার্বক্ষণিকভাবে যে আমাদের প্রতিটি কাজ ও কথা পর্যবেক্ষণ করছেন, এ অনুভূতি আমাদের মধ্যে সজীব ও অম্লান হয়ে থাকবে।
প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! জিহ্বা হচ্ছে আল্লাহর নিয়ামতসমূহের একটি। আল্লাহ তাআলা জিহ্বাকে বিভিন্ন বস্তুর স্বাদ গ্রহণ ও মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে দান করেছেন। ইরশাদ হয়েছে :
{أَلَمْ نَجْعَلْ لَهُ عَيْنَيْنِ وَلِسَانًا وَشَفَتَيْنِ}
‘আমি কি তার জন্য দু’টি চোখ বানাইনি? আর একটি জিহ্বা ও দু’টি ঠোঁট’? (সূরা আল-বালাদ:৮-৯)।
জিহ্বার ব্যবহার থেকেই বুঝে নেয়া যায় কোন ব্যক্তি কতটা বুদ্ধিমান অথবা নির্বোধ। সে কতটা সভ্য অথবা অসভ্য। এই জিহ্বার অযাচিত ব্যবহারের ফলেই অনেককে হতে হয় নিহত অথচ তাকে হয়তো জীবদ্দশায় ভয় পেত বীর বাহাদুররা পর্যন্ত। এই জিহ্বার কারণেই তো জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে অনেককে উপুর করে ।
আল্লাহ তাআলা সদাসর্বদা দেখছেন, পর্যবেক্ষণ করছেন এ অনুভূতি যে মুমিনের হৃদয়ে জাগ্রত রয়েছে সে কখনো তার জিহ্বাকে যথেচ্ছা ব্যবহার করতে পারে না। কেননা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই জিহ্বাকে সর্বাবস্থায় হিফাযত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর যা কিছু জিহ্বা হিফাযতের বিপরীতÑ তা থেকে তিনি বারণ করেছেন সুস্পষ্ট ভাষায়। ইরশাদ হয়েছে:
{وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ}
‘ এবং তোমরা একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশ্ত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করে থাক। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ অধিক তাওবা কবুলকারী, অসীম দয়ালু’ (সূরা আল হুজুরাত:১২)।
আবু বারযা আল আসলামী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
(يَا مَعْشَرَ مَنْ آمَنَ بِلِسَانِهِ، وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيْمَانُ قَلْبَهُ: لَا تَغْتَابُوْا الْمُسْلِمِيْنَ وَلَا تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ، فَإِنَّهُ مَنْ تَتَبَّعَ عَوْرَاتِهِمْ، تَتَبِّعَ اللهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ تَتَبَّعَ اللهُ عَوْرَتَهُ، يَفْضَحْهُ فِىْ بَيْتِهِ.)
‘ হে ঐ সকল লোক যারা শুধু মুখে ঈমান এনেছ অথচ ঈমান তাদের হৃদয়ে প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলমানের গীবত করো না এবং তাদের দোষ খোঁজার পেছনে লেগো না। কেননা যে তাদের দোষ খোঁজায় লিপ্ত হবে, আল্লাহও তার পেছনে দোষ খুঁজবেন। আর আল্লাহ যার পেছনে লাগেন তিনি তাকে তার বাড়িতেই লাঞ্ছিত করে ছাড়েন’ (আবু দাউদ)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরনিন্দা থেকেও কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ইবনে আব্বাস রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং বললেন:‘নিশ্চয় এ দু’জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে। তবে এদের বড় কোনো গোনাহর জন্য আযাব দেয়া হচ্ছে না রবং এদের একজন প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করত না। আর অন্যজন মানুষের মাঝে পরনিন্দা করে বেড়াত’ (বুখারী ও মুসলিম)
মানুষকে অভিশাপ দেয়াও জিহ্বাজাত একটি বড় অপরাধ এবং এক হাদীস অনুযায়ী এটা নারীদের অধিক হারে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। ইরশাদ হয়েছে :
(يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ، فَقُلْنَ وَبِمَ ذَلِكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ؟ قَالَ : تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ.)
হে নারী সম্প্রদায়, তোমরা সাদকা করো, নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে জাহান্নামবাসীদের মধ্যে অধিক সংখ্যক দেখতে পেয়েছি। নারীরা বলল: ‘এটা কেন হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, ‘তোমরা অধিক অভিশাপ দাও এবং স্বামীর দান অস্বীকার কর’ (বুখারী)।
মানুষের মুখের কথা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। যা ইচ্ছে তাই বলে ফেলা একজন মুমিনের আচরণ হতে পারে না বরং প্রতিটি কথাই হিসেব করে বলা উচিত। মানুষের জিহ্বা হতে নিঃসৃত কোনো কথাকেই তুচ্ছ জ্ঞান করা উচিত নয়। হাদীসে এসেছে:
(وَإِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللَّهِ لَا يُلْقِي لَهَا بَالًا، يَهْوِي بِهَا فِي جَهَنَّمَ)
‘ নিশ্চয় বান্দা হয়তো আল্লাহর অপছন্দনীয় এমন কথা বলে ফেলে, যা সে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না কিন্তু সে কথার কারণেই সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে’ (বুখারী)।
এর বিপরীতে যে ব্যক্তি আল্লাহর রেযামন্দী আকৃষ্টকারী উত্তম কথা বলবে সে এধরনের কথার কারণে জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত বলে গণ্য হবে।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যবানের হিফাযতের ব্যাপারে অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি যবানের হিফাযতকে সকল কল্যাণের মূল বলে আখ্যায়িত করেছেন। মুআয রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘আমি কি তোমাকে এ সবের মূল সম্পর্কে বলব না! এটাকে বারণ করো- এই বলে তিনি তাঁর জিহ্বার দিকে ইশারা করলেন, মুআয রাযি. বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আমরা যা বলি তার কারণে কি আমাদেরকে পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন, হে মুআয তোমার মাতা সন্তানহারা হোক! মানুষকে কি তার জিহ্বার অর্জন ছাড়া অন্য কিছু জাহান্নামে উপুর করে নিক্ষেপ করবে’?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পরিবারের সদস্যদের যবানের হিফাযতের ব্যাপারে খুবই গুরত্ব দিতেন। কোনো অযাচিত কথা তাঁদের যবান থেকে বের হয়ে গেলে সাথে সাথে তিনি তাদেরকে সতর্ক করে দিতেন। তাঁদেরকে সব সময় যবানের ভুলত্র“টি থেকে পরিচ্ছন্ন রাখতেন। আয়েশা রাযি. বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম, ‘সাফিয়্যার এই এই দোষই তো আপনার জন্য যথেষ্ট- বর্ণনাকারীদের কেউ বলেছেন, এ কথার দ্বারা আয়েশা রাযি.-এর উদ্দেশ্য ছিল, সাফিয়্যা রাযি. কে বেটে বলে আখ্যায়িত করা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন :
(لَقَدْ قُلْتِ كَلِمَةً لَوْ مُزِجَتْ بِمَاءِ الْبَحْرِ لَمَزَجَتْهُ)
‘তুমি এমন কথা বলেছ, যা সাগরের পানির সাথে মেশানো হলে পুরা সাগরের পানির সাথে মিশ্রিত হয়ে যাবে’। আয়েশা রাযি. বলেন:
(وَحَكَيْتُ لَهُ إِنْسَانا فَقَالَ : مَا أُحِبُّ أَنِّ حَكَيْتُ إِنْسَانا وَإَنَّ لَي كَذَا وَكَذَا)
‘ আমি এক ব্যক্তির অঙ্গভঙ্গিমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখালাম। তিনি বললেন, ‘আমি পছন্দ করি না যে আমি কারো অঙ্গভঙ্গিমা দেখাব যদিও আমাকে এই এই দেয়া হয়’ (তিরমিযী, হাসান)।
মানুষের দোষত্র“টি বর্ণনা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে হাদীসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ হাদীসে কোনো চাল-চলনকে এমনকি অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও প্রকাশ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের সমাজে অনেককেই দেখা যায়, অভিনয়ের মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তির চাল-চলন নকল করে দেখায়, এটা এক প্রকার গীবত, যা এ হাদীস অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
আমাদের সমাজে যবানের হিফাযতকে একটি তুচ্ছ বিষয় বলে জ্ঞান করা হয়। খুব কম মানুষই রয়েছে যারা বিষয়টিকে ঐকান্তিকতার সাথে নেয় বিষয়টির প্রতি যথার্থ গুরুত্বারোপ করে। যেমন অনেককেই দেখা যায় অযাচিত কথাবার্তায় যথেচ্ছভাবে জিহ্বার ব্যবহার করতে, অহেতুক কথাবার্তায় সময় কাটাতে, মুসলমানদের ইজ্জত-আব্র“তে হামলা করে কথাবার্তা বলতে, অশ্লীল কথাবার্তায় জিহ্বার ব্যবহার করতে। অনেকেই আবার মুসীবতের সময় চিৎকার করে হা-হুতাশ করে থাকে। এটাও জিহ্বার অপব্যবহার এবং শরীয়াতের দৃষ্টিতে অযাচিত কর্ম।
অহেতুক কথা হলো ঐসব বৈধ কথা যাতে কোনো উপকার নেই। বরং কখনো কখনো ক্ষতির কারণ হয় যদি তা স্বাভাবিকতার সীমানা অতিক্রম করে যায়। ইমাম বুখারী রহ. আল-আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন :
خَطَبَ رَجُلٌ عِنْدَ عُمَرَ، فَاكَثَرَ الْكَلَامَ، فَقَالَ عُمَرُ: إِنَّ كَثْرَةَ الكَلَامِ فِي الْخُطَبِ مِنْ شَقَاشِقِ الشَّيْطَانِ
‘এক ব্যক্তি উমর রাযি. এর কাছে বক্তৃতা করল। সে বেশি কথা বলল। উমর রাযি. বললেন: নিশ্চয় বক্তৃতায় অধিক কথা শয়তানের বচন’। তাই আমাদের উচিত হবে আল্লাহর যিকর, আমর বিল মারূফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার, ভালো ও বরকতময় কথায় নিজদের জিহ্বাকে ব্যবহার করা, যা বয়ে আনবে অভূতপূর্ব কল্যাণ ও শান্তি।
আর যে বিষয়টি গুরুত্বহীন, অপ্রয়োজনীয় তা থেকে বিরত থাকা নিজের ইসলামকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার আলামত। হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
(مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيْهِ)
‘মানুষের মধ্যে ইসলামের সৌন্দর্যের আলামত হলো এমন জিনিস বর্জন করা যা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়’ (তিরমিযী)।
আর মানুষের ইয্যত আবরু নিয়ে কথা বলা মুনাফিকদের আলামত। তাই এ বিষয়টিকে অবশ্যই বর্জন করতে হবে। ওয়াছেলা ইবনুল আসকা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: মুসলমানের ওপর মুসলমানের রক্ত, সম্মান ও সম্পদ হারাম। মুসলমান মুসলমানের ভাই, সে তাকে যুলম করবে না, লজ্জিত করবে না। আর তাকওয়া হলো এখানে-এই বলে তিনি হাত দিয়ে তাঁর হৃৎপিণ্ডের প্রতি ইশারা করলেন’(আহমদ)
প্রিয় ভাইয়েরা! বর্তমানে মুসলিম সমাজে যে অশ্লীল কথাবার্তার সয়লাব চলছে তার মূলে রয়েছে ইয়াহূদীবাদী মিডিয়ার আগ্রাসন যা মুসলমানদের অজান্তেই তাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাতদিন। আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
(إِنَّ أَثْقَلَ مَا وُضِعَ فِي مِيزَانِ الْمُؤْمِنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُلُقٌ حَسَنٌ، وَإِنَّ اللَّهَ يُبْغِضُ الْفَاحِشَ الْبَذِيءَ)
‘ কিয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় অধিক ভারি জিনিস যা রাখা হবে তা হলো উত্তম চরিত্র। আর যে ব্যক্তি ফাহেশা ও অশ্লীল কথা বলে আল্লাহ তাআলা তাকে ঘৃণা করেন’ (ইবনে হাব্বান)।
বিপদ-মুসীবতের সময় চিৎকার করা, হা-হুতাশ করা জাহেলী যুগের অভ্যাস। বিপদ-মুসীবতের সময় ইসলামের নির্দেশ হলো সবর করা, যার প্রতিদান অঢেল বলে ঘোষিত হয়েছে। ছাবেত রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি আনাস রাযি. কে তাঁর পরিবারের এক মহিলাকে বলতে শুনেছি, ‘তুমি কি অমুক মহিলাকে চেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন আর সে ছিল কবরের কাছে ক্রন্দনরত। তিনি তাকে বললেন,
اتَّقِيْ اللَّهَ وَاصْبِرِيْ
‘তুমি আল্লাহকে ভয় করো ও ধৈর্য ধরো’। মহিলা বলল, ‘আপনি সরে যান। আমার মুসীবতের ব্যাপারে আপনি উদাসীন। বর্ণানাকারী বলেন, ‘মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চিনতে পারেনি’। অতঃপর তাকে বলা হলো, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ কথা শুনে মহিলা মৃত্যুমুখী ব্যক্তির ন্যায় মূর্ছা গেল। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরজায় এলো। সেখানে কোনো দারোয়ান ছিল। মহিলা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেন,
(إِنَّ الصَّبْرَ عِنْدَ أَوَّلِ صَدْمَةٍ)
‘ সবর তো হলো প্রথম ধাক্কার সময়’ (বুখারী ও মুসলিম)।
সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! উম্মতের মধ্যে মিথ্যার ছড়াছড়ি খুবই অশুভ লক্ষণ। মিথ্যা একটি বড় গুনাহ, হারাম বিষয়। ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন :
(وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ، فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ، وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ، وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا)
‘তোমরা মিথ্যা থেকে বাঁচো! কেননা মিথ্যা অপকর্মের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপকর্ম জাহান্নামে নিয়ে যায়। আর নিশ্চয় লোকে মিথ্যা বলতে থাকে, পরিশেষে আল্লাহর কাছে তাকে মিথ্যাবাদী রূপে লেখা হয়’ (বুখারী: আল আদাবুল মুফরাদ, আলবানী হাদীসটি বিশুদ্ধ বলেছেন)।
ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে :
(لا يَصْلُحُ الْكَذِبُ فِي جَدٍّ وَلا هَزْلٍ، وَلا أَنْ يَعِدَ أَحَدُكُمْ صَبِيَّهُ شَيْئًا، ثُمَّ لا يُنْجِزُهُ لَهُ)
‘ঐকান্তিকতা অথবা কৌতুক-রসিকতা কোনো ক্ষেত্রেই মিথ্যা খাটে না। আর তোমাদের কেউ তার সন্তানকে এমন ওয়াদা দেবে না যা সে পূরণ করবে না’ (আত-তাফসীর মিন সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর)।
মুমিন শুধু যে নিজেই মিথ্যা বলবে না এমন নয় বরং কোনো ফাসিক ব্যক্তি যদি কোনো সংবাদ নিয়ে আসে তা সত্য না মিথ্যা সে ব্যাপারেও যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে আল কুরআনে। ইরশাদ হয়েছে :
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ}
‘ হে ঈমানদারগণ, যদি কোন ফাসিক তোমাদের কাছে কোন সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা যাচাই করে নাও। এ আশঙ্কায় যে, তোমরা অজ্ঞতাবশত কোন কওমকে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে’ (সূরা আল-হুজুরাত:৬)।
অর্থ্যাৎ কোনো ফাসিক ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে এলে, তা বিশ্বাস করে তদনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার পূর্বে যাচাই করে দেখতে হবে, সে কি সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে। যদি দলীল প্রমাণ সাপেক্ষে তার সংবাদ সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা সঙ্গত হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কথায় ও কাজে সত্যবাদী হওয়ার এবং জিহ্বা সংযত রাখার তাওফীক দান করুন।
بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن الْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر الحْكِيْمِ, أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو الْغَفُور الرَّحِيْمْ .


اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ، وَصَلَّىَ اللهُ وَسَلَّمَ وَبَارَكَ عَلَى مَنْ خُتِمْتْ بِهِ الرِّسَالاتُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، وَعَلَى آلِهِ، وَصَحْبِهِ، وَأَزْوَاجُهِ الطَّاهِرَاتِ العَفِيفَاتِ، أَمَّا بَعْدُ :
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আমরা যদি মনে করি যে আমরা যেসব কথা বলছি তা হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে তবে তা ভুল হবে। কারণ মানুষের কথা ও কাজ লিপিবদ্ধ করার জন্য আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা নিয়োগ করে রেখেছেন। ইরশাদ হয়েছে :
{وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً}
‘আর তিনি তোমাদের ওপর প্রেরণ করেন হিফাযতকারীদেরকে’ (সূরা আল আনআম:৬১)।
অন্য এক আয়াতে এসেছে :
{وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ. كِرَامًا كَاتِبِينَ}
‘আর নিশ্চয় তোমাদের ওপর সংরক্ষকগণ রয়েছে। সম্মানিত লেখকবৃন্দ’ (সূরা ইনফিতার: ১০-১১)।
পবিত্র কুরআনে আরো ইরশাদ হয়েছে :
{إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ}
‘যখন ডানে ও বামে বসা দু’জন লিপিবদ্ধকারী পরস্পর গ্রহণ করবে’ (সূরা কাফ:১৭)।
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে :
{أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ بَلَى وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ}
‘না কি তারা মনে করে, আমি তাদের গোপনীয় বিষয় ও নিভৃত সলাপরামর্শ শুনতে পাই না? অবশ্যই হ্যাঁ, আর আমার ফেরেশতাগণ তাদের কাছে থেকে লিখছে’ (সূরা আয-যুখরুফ:৮০)।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা রাযি. থেকে এক বর্ণনায় এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
(يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلَائِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ وَصَلَاةِ الْعَصْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ، كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي؟ فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ)
‘ রাতে ও দিনে ফেরেশতারা তোমাদের মাঝে পালাক্রমে আসে। তারা ফজরের নামায ও আসরের নামাযে একত্রিত হয়। অতঃপর যারা রাতের বেলায় তোমাদের মাঝে থাকে তারা আকাশে উঠে যায়। আর আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, যদিও তিনি তোমাদের ব্যাপারে তাদের থেকে অধিক জানেন- আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় রেখে এসেছ? তারা বলে : আমরা তাদেরকে নামাযরত অবস্থায় রেখে এসেছি। আর তাদের মাঝে যখন গিয়েছি তখনো তারা ছিল নামাযরত’।
প্রিয় ভাইয়েরা! আমাদের সকল কথা ও কাজ একদিকে আল্লাহ তাআলা সরাসরি দেখছেন অপর দিকে তিনি ফেরেশতা নিয়োজিত করে রেখেছেন। তাই আমরা আমাদের প্রতিটি কাজ হিসেব করে করি। প্রতিটি কথা হিসেব করে বলি।
আসলে কথা বলার ক্ষেত্রে আমরা আজ খুবই নাজুক পরিবেশে রয়েছি। অহরহ মিথ্যা বলা একটি সমাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। মানুষের গীবত করা, পরনিন্দা করা ইত্যাদি অনেকের জীবনে নিত্যদিনের অনুসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব থেকে মুক্তির একটিই পথ। আর তা হলো হৃদয়ে আল্লাহর তাকওয়া যথার্থরূপে ধারণ করে সত্য কথা বলার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর হওয়া। আমরা যদি এরূপ করতে পারি তবে আমাদের সকল কাজ ও আমলে শুদ্ধতা আসবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের পাপ ও গুনাহও ক্ষমা করে দিবেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে :
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}
‘ হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্ল-াহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল’ (সূরা আল আহযাব:৭০-৭১)।
মানুষের যবান হলো কল্যাণের শাহ দরজা আবার অকল্যাণেরও শাহ দরজা। তাই যে ব্যক্তি ভালো কথা বলার সামর্থ্য রাখে না তার জন্য কথা না বলে চুপ থাকাটাই ঈমানের আলামত। হাদীসে এসেছে:
(مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ ‘)
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে’ (বুখারী ও মুসলিম)।
মুমিনদেরকে ‘কাওলে সাদীদ’ তথা সঠিক কথা বলতে বলা হয়েছে। কাওলে সাদীদ হলো সত্য-সঠিক কথা। মানুষকে কুরআন পড়ে শুনানো, হাদীস পড়ে শোনানোও কাওলে সাদীদের মধ্যে শামিল। হাদীসে এসেছে :
(نَضَّرَ اللَّهُ امْرءاً سَمِعَ مَقَالَتِي، فَوَعَاهَا، ثُمَّ أَدَّاهَا إِلَى مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا)
‘আল্লাহ তাআলা সে ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনল অতঃপর তা অনুধাবন করল এবং তা পৌঁছিয়ে দিল যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবে’ (আহমদ, সহীহ)।
অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করাও কাওলে সাদীদের অন্তর্ভুক্ত। আযান ইকামতও কাওলে সাদীদের আওতাভুক্ত। কাওলে সাদীদ বা সঠিক কথার দ্বারাই উত্তম চরিত্র ও মাধুর্যময় আচরণ এবং উন্নত আদর্শ সমাজে প্রচার পায়। অতঃপর মানুষ সেগুলো আপন করে নিতে এগিয়ে আসে। আর খারাপ কথার মাধ্যমে গোমরাহী ও দু®কৃতি প্রচার পায়। সমাজের পবিত্র পরিবেশ বিনষ্ট হয়, হারিয়ে যায় আদর্শিক দৃঢ়তা। যা কিছু অশুভ ও অকল্যাণকর সমাজের পরতে পরতে তাই বাসা বাঁধে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে আমাকে হিফাযত করুন। যবান সংযত রাখার তাওফীক দান করুন। অহেতুক ও অকল্যাণকর সকল কথা থেকে আমাদেরকে হিফাযত করুন।
اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْم إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنَ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الْرَّاحِمِيْنَ.
হে আল্লাহ! আপনি আমাদরেকে যবান হিফাযত করার তাওফীক দান করুন। যবানের যথেচ্চা ব্যবহার থেকে আমাদের বাঁচান। মিথ্যাচার, গীবত, অন্যায়-কথা, অশ্লীল ও অযাচিত কথা থেকে আমাদের বাঁচান।
হে আল্লাহ! আমাদের যবানকে আপনার যিকর, হামদ, ছানায় যাতে মাশগুল রাখতে পারি সে তাওফীক আমাদের দান করুন।
হে আল্লাহ! অতীতে আমাদের যবানের অযাচিত ব্যবহারের কারণে যেসব ভুলত্র“টি হয়েছে, তা আপনি মাফ করে দিন। সব সময় যাতে ভালো কথা বলতে পারি, কল্যাণের কথা বলতে পারি সে তাওফীক আমাদের দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের সকল পাপ-গুনাহ মাফ করে দিন। আপনি আমাদেরকে পূত-পবিত্র করে দিন। মুসলিম উম্মাহকে আপনি হিফাযত করুন। মুসলিমবিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের আপনি দীনের পথে পরিচালিত করুন। তাদের সবাইকে আপনি মুত্তাকী-পরহেযগা বানিয়ে দিন। বিজাতীয় ষড়যন্ত্র থেকে তাদের হিফাযত করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Name *
Email *
Website